সলোমনকে ডেভিডের নির্দেশনা
1. ইতিমধ্যে দায়ূদের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল
2. “আমার আর বেশী দিন নেই, সব লোকের মতোই আমিও মারা যাব
3. এখন নিষ্ঠার সঙ্গে তোমার প্রভু ঈশ্বরের আজ্ঞা মেনে চল
4. শলোমন, তুমি যদি ঈশ্বরের আজ্ঞাবহ হয়ে তাঁর নির্দেশিত পথে জীবনযাপন করো, তিনিও তাঁর এই প্রতিশ্রুতির কথা মনে রাখবেন
5. দায়ূদ আরও বললেন, “তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে, সরূযার পুত্র য়োয়াব আমার সঙ্গে কি করেছিল? সে ইস্রায়েলের সেনাবাহিনীর দুই সেনাপতিকে হত্যা করেছিল
6. কিন্তু এখন তুমি রাজা
7. গিলিয়দের বর্সিল্লযের সন্তানদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করো
8. “আর মনে রেখো বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর বহুরীম নিবাসী গেরার পুত্র শিমিযি এখনও কাছে পিঠেই কোথাও আছে
9. কিন্তু দেখো, ওকে য়েন শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দিও না
ডেভিডের মৃত্যু
10. এরপর রাজা দায়ূদের মৃত্যু হলে, দায়ূদ শহরে তাঁকে সমাধিস্থ করা হল
11. দায়ূদ 40 বছর ইস্রায়েলে শাসন করেছিলেন
12. অতঃপর শলোমন রাজা হয়ে তাঁর পিতার সিংহাসনে বসে রাজা দায়ূদের রাজ্য পুরোপুরি নিজের দখলে আনলেন
সলোমন আদোনিয়কে মৃত্যুদণ্ড দেন
13. হগীতের পুত্র আদোনিয় এসময়ে এক দিন শলোমনের মা বত্শেবার সঙ্গে দেখা করতে এলেন
14. তবে আপনার কাছে আমার কিছু বক্তব্য আছে
15. আদোনিয় বলল, “আপনার মনে রাখা দরকার য়ে, এক সময়ে এ রাজ্য আমারই ছিল
16. আমার আপনার কাছে একটি প্রার্থনা আছে, দয়া করে আমায় নিরাশ করবেন না
17. আদোনিয় বলল, “আমি জানি, রাজা শলোমন কখনও আপনার আদেশ অমান্য করবেন না
18. বত্শেবা বলল, “এ বিষয়ে আগে তাঁকে রাজার সঙ্গে কথা বলতে হবে
19. কথা মতো বত্শেবা বিষযটি নিয়ে রাজা শলোমনের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন
20. তারপর বললেন, “তোমার কাছে একটা ছোট জিনিস চাইতে এসেছি, আমাকে নিরাশ করো না
21. বত্শেবা তখন বললেন, “তাহলে তোমার ভাই আদোনিয়কে শূনেমের অবীশগ বলে সেই মেয়েটিকে বিয়ে করতে অনুমতি দাও
22. একথা শুনে শলোমন তাঁর মাকে বললেন, “তুমি শুধু অবীশগকেই আদোনিয়র হাতে তুলে দিতে বলছ কেন? তার চেয়ে বলো না কেন, ওকেই এবার রাজা করে দিই
23. এরপর ক্রুদ্ধ শলোমন প্রভুর নামে প্রতিশ্রুতি করে বললেন, “আমি প্রতিশ্রুতি করছি, এর মূল্য আদোনিয়কে দিতে হবে
24. প্রভু তাঁর প্রতিশ্রুতি মতো আমাকে ইস্রায়েলের রাজা করেছেন, আমার পিতা দায়ূদের রাজ সিংহাসনে আমাকে বসিযেছেন
25. এরপর শলোমন, য়েমন ভাবে যিহোয়াদার পুত্র বনাযকে নির্দেশ দিলেন, তেমনি বনায গেলেন এবং আদোনিয়কে হত্যা করলেন
অবিয়াথার নির্বাসিত, যোয়াবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে
26. তারপর রাজা শলোমন যাজক অবিয়াথরকে ডেকে বললেন, “তোমাকে আমার হত্যা করা উচিত্, কিন্তু আমি এখন তোমাকে হত্যা করব না, সুতরাং তুমি তোমার বাড়ি অনাথোতে য়েতে পারো, কারণ তুমি আমার পিতা দায়ূদের সঙ্গে পদযাত্রার সময় প্রভুর পবিত্র সিন্দুকটি বয়ে নিয়ে গিয়েছিলে
27. শলোমন অবিয়াথরকে একথাও বললেন য়ে সে আর যাজক হিসেবে প্রভুর সেবা কাজ করতে পারবে না
28. এখবর পেয়ে য়োয়াব খুব ভয পেয়ে গেলেন
29. পরে রাজা শলোমনের কাছে সংবাদ এল য়ে য়োয়াব প্রভুর তাঁবুর বেদীর কাছে আছেন, সুতরাং শলোমন বনাযকে য়োয়াবকে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন
30. বনায তখন প্রভুর তাঁবুর সামনে গিয়ে বললেন, “রাজার নির্দেশ মেনে তুমি ভালোয ভালোয বেরিয়ে এসো
31. অতঃপর রাজা নির্দেশ দিলো, “তাহলে ও যা বলেছে তাই হোক্
32. য়োয়াব, যারা ওর থেকে অনেক ভালো লোক ছিল দুই ব্যক্তি, ইস্রায়েলের সেনানায়ক নেরের পুত্র অবনের ও য়েথরের পুত্র যিহূদার সেনাবাহিনীর প্রধান অমাসাকে হত্যা করেছিল
33. তাকে এবং তার পরিবারের সকলকেই এই কর্মফল ভোগ করতে হবে
34. তখন যিহোয়াদার পুত্র বনায গিয়ে য়োয়াবকে হত্যা করল
35. এরপর শলোমন বনাযকে য়োয়াবের জায়গায় সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করলেন
শিমিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে
36. তারপর রাজা শিমিযিকে ডেকে পাঠিয়ে তাকে জেরুশালেমে নিজের জন্য একটা বাড়ি বানিয়ে সেখানেই থাকতে নির্দেশ দিলেন
37. রাজা শলোমন তাকে সাবধানও করে দিয়েছিলেন
38. শিমিযি একথায় সম্মতি জানিয়ে বলল, “ঠিক আছে মহারাজ, আমি আপনার নির্দেশ মেনেই চলবো
39. কিন্তু তিন বছর পরে শিমিযির দুই ক্রীতদাস পালিয়ে গিয়ে মাখার পুত্র গাতীয রাজা আখীশের রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছিল
40. একথা জানতে পেরে শিমিযি তার গাধায চড়ে গাতীয রাজা আখীশের কাছ থেকে তাদের ফিরিযে এনেছিল
41. কিন্তু কেউ একজন গিয়ে একথা শলোমনের কানে তুললে,
42. শলোমন শিমিযিকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, “আমি ঈশ্বরের নামে শপথ করে তোমায় বলেছিলাম য়ে তুমি জেরুশালেম শহরের বাইরে পা দিলে তোমার মৃত্যুদণ্ড হবে
43. তুমি আমার নির্দেশ মেনে চলবে বলেও কেন তা অমান্য করলে? কেন নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে বলো?
44. তুমি ভালো করেই জানো বিভিন্ন সময়ে তুমি আমার পিতা দায়ূদেরও বিরুদ্ধাচরণ করেছ
45. কিন্তু প্রভু আমায় আশীর্বাদ করবেন এবং রাজা দায়ূদের রাজ্য বাধামুক্ত হবে
46. একথা বলে রাজা শিমিযিকে হত্যার আদেশ দিলেন বনাযকে